সততা ও জনস্বার্থ আমাদের মূল ভিত্তি। পাঠককে ও লেখককে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দেওয়া হয় যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা স্বীকৃত।
পর্যালোচনা
আমাদের প্রকাশনা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, যেখানে পাঠক প্রতিক্রিয়া এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন মত তুলে ধরা হয় এবং উৎসগুলির সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। এটি শুধু শিরোনামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাৎপর্য গভীর ভাবে বিশ্লেষিত।
নিরপেক্ষতা
কভারেজ সম্পূর্ণরূপে পক্ষপাতমুক্ত। পাঠকের মতামতের ভিত্তিতে এবং বৈশ্বিক রিপোর্টারদের সহযোগিতায় বিভিন্ন কণ্ঠস্বরকে গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়। তথ্যের উৎসগুলো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পরিমার্জিত, যা কভারেজের নিরপেক্ষতাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করে।
সত্যতা
তথ্যের পরিবর্তনশীলতা থাকলেও সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা থেকে কোনো আপস করা হয় না। লেখক ও সূত্রের পরিচয়, প্রকাশের তারিখ ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করে তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাহ্যিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ পৃথক প্রতিষ্ঠানগত সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গভীরতা, দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতা
তথ্যের উপরিভাগের পরিবর্তে, প্রতিটি ঘটনার গভীরে প্রবেশ করে তার কারণ, তাৎপর্য এবং প্রাসঙ্গিকতা বিশ্লেষণ করা হয়। প্রকাশনার প্রতিটি পর্যায়ে নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা বজায় রাখা হয়। তথ্যগুলোতে সম্মান, ন্যায় ও ব্যক্তিগত সুবিধা-দূষণের প্রতিরোধ নিশ্চিত করা হয়।
সার্বিয়ান প্রবাদগুলি শুধু সংক্ষিপ্ত নীতি বাণী নয়, এগুলো একটি জাতির স্মৃতিতে খোদাই হওয়া ইতিহাস, দর্শন আর টিকে থাকার গল্পের সুর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এরা বেড়ে উঠেছে ভূ-রাজনৈতিক বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে, উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুদীর্ঘ ছায়ার নিচেও। সেই সময়কে কেবল ‘তুর্কি জোয়াল’ বলা হবে একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি।
আন্তোনিও গ্রামসির রাজনৈতিক দর্শনের মূল স্তম্ভ হলো 'ওয়ার অফ পজিশন' বা স্থানিক যুদ্ধ, যা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এক গভীর পরিবর্তনের সূচনা করেছে। ১৯২৯ থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যে ইতালির ফ্যাসিবাদী কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় গ্রামসি তার 'প্রিজন নোটবুক'-এ এই তত্ত্বটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। এই তত্ত্বের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুঁজিবাদী ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং এর সাংস্কৃতিক আধিপত্য বা 'হেজিমনি' বোঝার চেষ্টা করা। গ্রামসি লক্ষ্য করেছিলেন যে, আধুনিক পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোতে ক্ষমতা কেবল পুলিশ বা সামরিক শক্তির ওপর টিকে থাকে না, বরং তা নাগরিক সমাজের গভীর শিকড়ে প্রোথিত থাকে। তার মতে, এই গভীর শিকড়কে উপড়ে না ফেলে কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা অসম্ভব।
বারাক ওবামার রাষ্ট্রপতিত্ব (২০০৯-২০১৭) মার্কিন ইতিহাসের একটি আলোচিত, প্রভাবশালী ও বিতর্কিত অধ্যায়। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার শাসনামল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সময়। তার রাষ্ট্রপতিত্ব কেবল মার্কিন রাজনীতিতেই নয়, বিশ্বজুড়ে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। তার শাসনামলে মার্কিন অর্থনীতি ২০০৮ সালের বিশ্ব আর্থিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধার লাভ করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা এবং বৈদেশিক সংঘাতে জড়িততার কারণে আন্তর্জাতিক মহল তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ইউরোপ যখন শিল্পবিপ্লবের সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে, তখন মানবসমাজের উৎপাদন, বাণিজ্য ও রাষ্ট্রচিন্তার ভেতরে এক গভীর রূপান্তরের প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অ্যাডাম স্মিথ রচিত জাতির সম্পদ আধুনিক অর্থনৈতিক চিন্তার ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে আবির্ভূত হয়। গ্রন্থটি কেবল তৎকালীন অর্থনৈতিক কাঠামোর বিশ্লেষণই নয়, বরং মানুষের শ্রম, নৈতিকতা, স্বাধীনতা ও সামাজিক কল্যাণকে একসূত্রে গাঁথা এক সুসংহত দার্শনিক কাঠামো। স্মিথ দেখিয়েছেন যে একটি জাতির প্রকৃত সম্পদ সোনা-রুপার ভাণ্ডারে নয়, বরং তার মানুষের শ্রমশক্তি, উৎপাদনক্ষমতা এবং সেই উৎপাদনের ধারাবাহিক প্রবাহে নিহিত।